বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমানে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। আর এর জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে মহান শহীদ আসাদুজ্জামানের অমলিন স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ আসাদুজ্জামানের অমলিন স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং এ দিনে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি। তিনি বলেন, আমাদের স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ আসাদ এক চিরস্মরণীয় নাম। আইয়ুবী সামরিক স্বৈরশাসনের কবল থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে অকুতোভয় এ বীর সেনানী রাজপথে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তার আত্মত্যাগ ঐ সময়ে স্বৈরশাসনের পতন ত্বরান্বিত করেছিল, অর্জিত হয়েছিলো এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতন্ত্রের জন্য শহীদ আসাদের আত্মদান পরবর্তীকালে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে।
সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন শহীদ আসাদুজ্জামান। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিয়ে আমরা যদি এদেশের মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তাহলেই তার প্রতি দেখানো হবে যথাযথ সম্মান । আজকের এই দিনে আমি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণই সবচেয়ে জরুরী কাজ বলে মনে করি। আর এর জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে দেশবাসী সকলের প্রতি আহবান জানাই।
এদিকে অপর এক বাণীতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৬৯ সালে আইউব বিরোধী গণআন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী অন্যতম ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামানের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আমাদের প্রেরণার উৎস। যে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি জীবন দিয়ে গেছেন, তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। সে লক্ষ্যে গণতন্ত্র বিরোধী অপশক্তিগুলোর চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে। শহীদ আসাদ দিবসে এই হোক আমাদের দৃপ্ত শপথ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন