শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৩

অচল দেশ বিপর্যস্ত জনজীবন


টানা অবরোধে অচল দেশ, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। মুখ থুবড়ে পড়েছে অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সাধারণ মানুষের জীবিকা চলছে না। নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ভর করেছে সর্বত্র। সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেমে নেই। চলছে গুলি, খুন-পাল্টা খুন। কোন পথে শান্ত হবে দেশ, তা যেন কারোরই জানা নেই।
প্রধান বিরোধী দলের সাথে সমঝোতা ছাড়াই দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই চলছে টানা সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধ। ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া অবরোধ এক মাসে পা দিতে চলল। এক মাসের এই আন্দোলনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিরোধী দলকে বাইরে রেখে সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনের অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখার কথা বলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচনের রেকর্ড গড়ে দশম সংসদ গঠনের পথে আওয়ামী লীগ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী। বিরোধী দল টানা অবরোধের পথ ছাড়ছে না বলেই ঘোষণা দিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পর্যন্ত টানা অবরোধ চলবে। নির্বাচনের ঠিক আগে আন্দোলন ঘনীভূত করতে নতুন কৌশলও বেছে নেয়া হতে পারে। মাঠে নামতে পারেন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় আন্দোলন নতুন মোড় নেবে।আন্দোলনমুখী রাজনীতির এই যখন অবস্থা, তখন চিঁড়ে-চ্যাপ্টা জনজীবন। নিরাপদ জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই। হরহামেশাই নাশকতা চলছে। পুড়ছে মানুষ, ককটেল পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর চলছে গুলি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ১১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসের মুখে মানুষের জীবিকা। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবন এখন চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এক দিকে দিনমজুরদের মজুরি নেই, অন্য দিকে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। বেতনভুক চাকরিজীবীদেরও হাপিত্যেশ অবস্থা। আয়ের চেয়ে ব্যয় বাড়ছে হু হু করে। বাজারে গেলে চোখ উঠছে কপালে। সব ধরনের ব্যয় বেড়ে গেছে। 
দোকানপাট-বিপণিবিতানে কোনাে বেচাকেনা নেই। মাসখানেক ধরে রাজধানীসহ প্রায় সারা দেশের বড় বড় শপিংমল, সেল সেন্টার বন্ধ। সড়ক পথে অবরোধ থাকায় যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল সব ধরনের ব্যবসায়-বাণিজ্য উঠেছে লাটে। মুদি দোকানদার থেকে বড় ব্যবসায়ী সবারই একই দশা। কর্মচারীদের বেতন দিতে অনেকেই গলদঘর্ম হচ্ছেন। শেষ হয়ে আসছে পুঁজি। অর্থনীতির প্রতিটি খাতই আছে বিপদে। আমদানি-রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় থেকে শুরু করে পর্যটন শিল্প কোথাও সুখবর নেই। লেনদেন আশানুরূপ না হওয়ায় ব্যাংকগুলোতে দেখা দিয়েছে হতাশা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর হিসাবে প্রতিদিন হরতালে ক্ষতি দেড় হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে গত দেড় মাসে অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। আর পোশাক খাতের মালিকদের দাবি, তাদের ক্ষতি হয়েছে তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমন বিপর্যস্ত অবস্থা আর কখনো আসেনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসায়-বাণিজ্যে যে মন্দাবস্থা সৃষ্টি হবে, তা থেকে আর বের হওয়া যাবে না। এ রকম বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণে রাজনীতিতে কোনো সুখবর নেই। সরকারি দল ক্ষমতায় ও বিরোধী দল রাজপথে। আন্তর্জাতিক মহল ুব্ধ। সমঝোতার জন্য জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত তারানকোর সফর অনেক আগেই ভণ্ডুল হয়ে গেছে। সমঝোতার পথ এখন বন্ধ। সরকারি দল দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের সাথে আর আলোচনায় আগ্রহী নয়। বিরোধী দল বলছে, আলোচনা হতে হবে দশম সংসদ নির্বাচন নিয়েই, একাদশ সংসদ নিয়ে আলোচনায় বসার কোনো অবকাশ নেই। প্রধান বিরোধী দল ছাড়া আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ইতোমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। জাতিসঙ্ঘ কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক নজড়ে রেখেছে বাংলাদেশের প্রতিটি দিন। চলমান সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির আকস্মিক কোনো পরিবর্তন হবে কি না তা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে চলছে নানামুখী আলোচনা।

                            আগামী সপ্তাহে মাঠে নামছেন খালেদা জিয়া


                                    www.ssdbogra.com


নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে এখন আর সংলাপ নয়, রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাধান চায় 
বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপ প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে বলে মনে করে দলটি। তাই ৫ জানুয়ারি ভোটের দিন পর্যন্ত টানা কর্মসূচি রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট।